সম্পূর্ণ অফলাইন · ফ্রি · কোনো অ্যাকাউন্ট লাগে না

পর্দা নিজেই থেমে যাবে — মনে করিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায় নয়

নামাজের ওয়াক্ত এলে, আর একটানা কাজের নির্দিষ্ট সময় পার হলে — সময় প্রহরী আপনার কম্পিউটারের পুরো পর্দা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেয়। নোটিফিকেশনের মতো এড়িয়ে যাওয়া যায় না, কারণ এটা অনুরোধ করে না, থামায়।

সংস্করণ ০.২.১ ১.৮ MB ইনস্টলার Windows ১০/১১ (৬৪-বিট) ইন্টারনেট লাগে না
বিরতির পর্দা
বাধ্যতামূলক বিরতি
০৩:৪৮
এই সময় পরে পর্দা নিজেই খুলে যাবে
চোখ দুটোকে ছুটি দিন

২০ সেকেন্ড জানালার বাইরে বা ঘরের সবচেয়ে দূরের জিনিসটার দিকে তাকিয়ে থাকুন। কাছের পর্দায় আটকে থাকা চোখের পেশি তাতে ছেড়ে দেয়।

জরুরি — ১০ সেকেন্ড ধরে থাকুন
বিরতি আসছে ০০:৫৯ পরে বিরতি — কাজটা গুছিয়ে নিন
দৈনন্দিন জীবনে কেন দরকার

সমস্যাটা ইচ্ছাশক্তির নয় — মনোযোগের

কাজে ডুবে থাকা অবস্থায় সময়ের হিসাব থাকে না। ঘণ্টা কীভাবে পেরিয়ে যায়, টের পাওয়া যায় শুধু ঘাড়ে ব্যথা নিয়ে উঠে দাঁড়ানোর সময়।

ওয়াক্ত পার হয়ে যায়

আজান কানে আসে, কিন্তু হাতের কাজটা "আর দুই মিনিট" বলতে বলতে আধা ঘণ্টা খেয়ে ফেলে। ফোনের রিমাইন্ডার চোখেই পড়ে না — কারণ চোখ তখন কম্পিউটারের পর্দায়। দিনের পর দিন এভাবেই ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, আর কাযা জমতে থাকে।

একটানা বসে থাকার দাম

তিন-চার ঘণ্টা টানা পর্দায় তাকিয়ে থাকলে পলক ফেলার হার প্রায় অর্ধেকে নামে — চোখ শুকিয়ে যায়, ঝাপসা লাগে, মাথা ধরে। সাথে যোগ হয় ঘাড়-কাঁধ-কোমরের ব্যথা আর দিনশেষে সেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি, যার কারণ ধরা যায় না।

রিমাইন্ডার মানুষ মানে না

নোটিফিকেশন এক ক্লিকে সরে যায়, অ্যালার্ম snooze হয়, আর "আজ থেকে প্রতি ঘণ্টায় উঠব" সিদ্ধান্তটা দুপুরের মধ্যেই হারিয়ে যায়। যা সহজে এড়ানো যায়, তা অভ্যাস তৈরি করতে পারে না।

সময় প্রহরী মনে করিয়ে দেয় না — থামিয়ে দেয়।

পর্দা বন্ধ হয়ে যায়, কাজটা অপেক্ষা করে। কয়েক মিনিট পর নিজে থেকেই খুলে যায়, আপনি ঠিক যেখানে ছিলেন সেখানেই ফিরে আসেন।

কী কী করে

দুইটা আলাদা প্রহরা, একটাই অ্যাপ

দুটোই আলাদাভাবে চালু-বন্ধ করা যায়, আর প্রতিটা সময় আপনি নিজে ঠিক করেন — কোনো হিসাব বা লোকেশন লাগে না।

নামাজের ওয়াক্তে পর্দা লক

সময় আপনি বসাবেন — কোনো ক্যালকুলেশন বা ইন্টারনেট নয়
  • পাঁচ ওয়াক্তই নিজের হাতে — শুরুর সময় ও কতক্ষণ পর্দা বন্ধ থাকবে, দুটোই আলাদা করে ঠিক করা যায়। ইচ্ছেমতো নতুন ওয়াক্তও যোগ করা যায়।
  • দিন বেছে নেওয়া যায় — শুক্রবারে জুমার জন্য আলাদা সময়, বা ছুটির দিনে বন্ধ — সবই সম্ভব।
  • কুরআনের আয়াত — লক থাকা অবস্থায় নামাজ ও মৃত্যু বিষয়ক আয়াত আরবি ও বাংলা অর্থসহ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে।
  • সব মনিটরে — দুই বা তিন মনিটর থাকলে প্রতিটাই ঢেকে যায়, পাশেরটায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।
  • ফসকে যায় না — Alt+Tab করে বেরোনোর চেষ্টা করলে লক পর্দা এক সেকেন্ডেরও কমে আবার সামনে চলে আসে।
  • জরুরি পথ খোলা — সত্যিই দরকার হলে ১০ সেকেন্ড বোতাম চেপে ধরে খোলা যায়, আর প্রতিবারের হিসাব অ্যাপেই লেখা থাকে।

একটানা কাজের বাধ্যতামূলক বিরতি

প্রতি ঘণ্টায় (বা আপনার ঠিক করা সময়ে) কয়েক মিনিটের বিশ্রাম
  • ঘড়ি চলে শুধু কাজের সময় — কি-বোর্ড বা মাউস চললে তবেই সময় জমে। চা খেতে উঠে গেলে সেটাই বিরতি হিসেবে গোনা হয়, ফিরে এসে হিসাব শূন্য থেকে শুরু।
  • আগাম সংকেত — পর্দা বন্ধ হওয়ার এক মিনিট আগে কোণায় ছোট বার্তা আসে, যাতে হাতের কাজটা গুছিয়ে নেওয়া যায়।
  • বিশ্রামের পরামর্শ — বিরতির পর্দায় চোখ, ঘাড়, কাঁধ ও বসার ভঙ্গি নিয়ে ছোট ছোট কাজের কথা আসে; সময়টা খালি যায় না।
  • এড়ানো নয়, পেছানো — জরুরি হলে বিরতি কয়েক মিনিট পেছানো যায়, কিন্তু বাতিল হয় না। কতবার পেছানো যাবে সেটাও আপনি ঠিক করেন — শূন্য দিলে কোনো পথই থাকে না।
  • নামাজই যখন বিশ্রাম — ওয়াক্তের লক চললে তার উপরে আলাদা করে বিরতি আসে না, ওটাকেই বিশ্রাম ধরা হয়।
  • কাজের সময়সীমা — নিয়মটা দিনের কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত এবং সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে চলবে, সেটাও বেঁধে দেওয়া যায়।
নির্ভরযোগ্যতা

বন্ধ করে দিলে কাজ করবে না — তাই নিজে থেকেই চলে

ব্যাকগ্রাউন্ডে চুপচাপ চলতে থাকে

সেটিংস উইন্ডো বন্ধ করলে অ্যাপ বন্ধ হয় না — ট্রে আইকনে চলতে থাকে, তাই ওয়াক্ত বা বিরতির সময় ঠিকই ধরা পড়ে। পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে ট্রে আইকনে ডান-ক্লিক করে স্পষ্টভাবে বন্ধ করতে হয়।

কম্পিউটার চালু হলেই প্রস্তুত

লগইন করলেই নিজে থেকে চালু হয়ে ট্রেতে বসে যায় — কোনো উইন্ডো সামনে আসে না। এই সুবিধাটা সেটিংস থেকে বন্ধও করা যায়।

হিসাব ভুলে যায় না

একটানা কাজের ঘড়ি অ্যাপ বন্ধ করলেও মনে থাকে, তাই অ্যাপ বন্ধ করে এক ঘণ্টার বিরতি ফাঁকি দেওয়া যায় না। কম্পিউটার ঘুমিয়ে থাকলে বা বন্ধ থাকলে সেই সময়টা কাজ হিসেবেও গোনা হয় না।

হালকা, ঝামেলাহীন

ইনস্টলার মাত্র ১.৮ MB, চলতে থাকা অবস্থায় প্রায় কিছুই খরচ করে না। কোনো সার্ভিস, কোনো ড্রাইভার, কোনো অ্যাডমিন অনুমতি লাগে না — শুধু আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে ইনস্টল হয়।

ইন্টারনেট লাগে নাইনস্টলের পর অ্যাপটি একবারও অনলাইনে যায় না।
কোনো সার্ভার নেইআপনার সময়, ওয়াক্ত বা অভ্যাস কোথাও পাঠানো হয় না।
অ্যাকাউন্ট নেইসাইন-আপ, ইমেইল, ফোন নম্বর — কিছুই চাওয়া হয় না।
সব আপনার কম্পিউটারেসেটিংস থাকে একটাই ছোট ফাইলে, আপনার নিজের ফোল্ডারে।

আজ থেকেই শুরু করুন

ইনস্টল করতে এক মিনিটও লাগে না। প্রথম বিরতিটা আসবে ঠিক এক ঘণ্টা পর।

Windows ১০ / ১১ · ৬৪-বিট সংস্করণ ০.২.১ ফ্রি
ডাউনলোড ও ইনস্টল

ফাইলটি চালু করুন। Windows "More info → Run anyway" চাইলে দিন — ইনস্টলারটি কোড-সাইনড নয়, তাই এই সতর্কতা আসে।

সময়গুলো বসান

পাঁচ ওয়াক্তের সময় ও স্থায়িত্ব ঠিক করুন, আর বিরতির নিয়মে কত মিনিট কাজের পর কতক্ষণ বিশ্রাম, সেটা বেছে নিন।

ভুলে যান

উইন্ডোটা বন্ধ করে দিন — অ্যাপ ট্রেতে থেকে যাবে। সময় হলে পর্দা নিজেই আপনাকে থামাবে।

প্রশ্ন-উত্তর

যা সবাই জানতে চায়

জরুরি মিটিং বা উপস্থাপনার সময় লক হয়ে গেলে?

লক পর্দার নিচে একটি বোতাম থাকে — ১০ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে পর্দা খুলে যায় (সময়টা সেটিংসে বদলানো যায়)। নামাজের লকের ক্ষেত্রে ওই ওয়াক্তের বাকি সময়টুকু আর লক হয় না; বিরতির ক্ষেত্রে বিরতিটা বাতিল হয় না, কয়েক মিনিট পিছিয়ে যায়।

একাধিক মনিটর ব্যবহার করি — কাজ করবে?

হ্যাঁ। প্রতিটি মনিটরের জন্য আলাদা পর্দা তৈরি হয়, তাই কোনোটাই খোলা থাকে না।

ল্যাপটপ বন্ধ রেখে ফিরলে সঙ্গে সঙ্গে বিরতি নেমে আসবে?

না। ঘুমিয়ে থাকা বা বন্ধ থাকা সময়টুকু কাজের হিসাবে ধরা হয় না — বরং সেটাকে বিশ্রাম ধরে হিসাব নতুন করে শুরু হয়।

বিরতি কি সত্যিই এড়ানো যাবে না?

সেটা আপনার সেটিংসের উপর। "সর্বোচ্চ কতবার পেছানো যাবে" শূন্য রাখলে লক পর্দায় কোনো বোতামই থাকে না। এক বা তার বেশি দিলে ততবার পেছানো যায়, প্রতিবারের হিসাবও লেখা থাকে।

Mac বা Linux-এ চলবে?

অ্যাপটি এমনভাবেই তৈরি যে তিনটি প্ল্যাটফর্মেই চলে, তবে এই মুহূর্তে শুধু Windows-এর ইনস্টলার প্রকাশ করা হয়েছে।

মোবাইলে হবে?

নামাজের ওয়াক্তের লক অংশটি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য তৈরি করা আছে। একটানা কাজের বিরতি অংশটি ডেস্কটপের জন্য — কারণ ওতে কি-বোর্ড ও মাউসের ব্যবহার দেখে হিসাব রাখা হয়।

অ্যাপটি পুরোপুরি বন্ধ করব কীভাবে?

ঘড়ির পাশে ট্রে আইকনে ডান-ক্লিক করে "অ্যাপ বন্ধ করুন" দিন। শুধু উইন্ডো বন্ধ করলে অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতেই থাকে।

কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয়?

না, কিছুই না। কোনো সার্ভার নেই, কোনো অ্যাকাউন্ট নেই, কোনো ট্র্যাকিং নেই। আপনার সব সেটিংস আপনার নিজের কম্পিউটারে একটি সাধারণ ফাইলে থাকে।