নামাজের ওয়াক্ত এলে, আর একটানা কাজের নির্দিষ্ট সময় পার হলে — সময় প্রহরী আপনার কম্পিউটারের পুরো পর্দা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেয়। নোটিফিকেশনের মতো এড়িয়ে যাওয়া যায় না, কারণ এটা অনুরোধ করে না, থামায়।
২০ সেকেন্ড জানালার বাইরে বা ঘরের সবচেয়ে দূরের জিনিসটার দিকে তাকিয়ে থাকুন। কাছের পর্দায় আটকে থাকা চোখের পেশি তাতে ছেড়ে দেয়।
কাজে ডুবে থাকা অবস্থায় সময়ের হিসাব থাকে না। ঘণ্টা কীভাবে পেরিয়ে যায়, টের পাওয়া যায় শুধু ঘাড়ে ব্যথা নিয়ে উঠে দাঁড়ানোর সময়।
আজান কানে আসে, কিন্তু হাতের কাজটা "আর দুই মিনিট" বলতে বলতে আধা ঘণ্টা খেয়ে ফেলে। ফোনের রিমাইন্ডার চোখেই পড়ে না — কারণ চোখ তখন কম্পিউটারের পর্দায়। দিনের পর দিন এভাবেই ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, আর কাযা জমতে থাকে।
তিন-চার ঘণ্টা টানা পর্দায় তাকিয়ে থাকলে পলক ফেলার হার প্রায় অর্ধেকে নামে — চোখ শুকিয়ে যায়, ঝাপসা লাগে, মাথা ধরে। সাথে যোগ হয় ঘাড়-কাঁধ-কোমরের ব্যথা আর দিনশেষে সেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি, যার কারণ ধরা যায় না।
নোটিফিকেশন এক ক্লিকে সরে যায়, অ্যালার্ম snooze হয়, আর "আজ থেকে প্রতি ঘণ্টায় উঠব" সিদ্ধান্তটা দুপুরের মধ্যেই হারিয়ে যায়। যা সহজে এড়ানো যায়, তা অভ্যাস তৈরি করতে পারে না।
পর্দা বন্ধ হয়ে যায়, কাজটা অপেক্ষা করে। কয়েক মিনিট পর নিজে থেকেই খুলে যায়, আপনি ঠিক যেখানে ছিলেন সেখানেই ফিরে আসেন।
দুটোই আলাদাভাবে চালু-বন্ধ করা যায়, আর প্রতিটা সময় আপনি নিজে ঠিক করেন — কোনো হিসাব বা লোকেশন লাগে না।
সেটিংস উইন্ডো বন্ধ করলে অ্যাপ বন্ধ হয় না — ট্রে আইকনে চলতে থাকে, তাই ওয়াক্ত বা বিরতির সময় ঠিকই ধরা পড়ে। পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে ট্রে আইকনে ডান-ক্লিক করে স্পষ্টভাবে বন্ধ করতে হয়।
লগইন করলেই নিজে থেকে চালু হয়ে ট্রেতে বসে যায় — কোনো উইন্ডো সামনে আসে না। এই সুবিধাটা সেটিংস থেকে বন্ধও করা যায়।
একটানা কাজের ঘড়ি অ্যাপ বন্ধ করলেও মনে থাকে, তাই অ্যাপ বন্ধ করে এক ঘণ্টার বিরতি ফাঁকি দেওয়া যায় না। কম্পিউটার ঘুমিয়ে থাকলে বা বন্ধ থাকলে সেই সময়টা কাজ হিসেবেও গোনা হয় না।
ইনস্টলার মাত্র ১.৮ MB, চলতে থাকা অবস্থায় প্রায় কিছুই খরচ করে না। কোনো সার্ভিস, কোনো ড্রাইভার, কোনো অ্যাডমিন অনুমতি লাগে না — শুধু আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে ইনস্টল হয়।
ইনস্টল করতে এক মিনিটও লাগে না। প্রথম বিরতিটা আসবে ঠিক এক ঘণ্টা পর।
ফাইলটি চালু করুন। Windows "More info → Run anyway" চাইলে দিন — ইনস্টলারটি কোড-সাইনড নয়, তাই এই সতর্কতা আসে।
পাঁচ ওয়াক্তের সময় ও স্থায়িত্ব ঠিক করুন, আর বিরতির নিয়মে কত মিনিট কাজের পর কতক্ষণ বিশ্রাম, সেটা বেছে নিন।
উইন্ডোটা বন্ধ করে দিন — অ্যাপ ট্রেতে থেকে যাবে। সময় হলে পর্দা নিজেই আপনাকে থামাবে।
লক পর্দার নিচে একটি বোতাম থাকে — ১০ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে পর্দা খুলে যায় (সময়টা সেটিংসে বদলানো যায়)। নামাজের লকের ক্ষেত্রে ওই ওয়াক্তের বাকি সময়টুকু আর লক হয় না; বিরতির ক্ষেত্রে বিরতিটা বাতিল হয় না, কয়েক মিনিট পিছিয়ে যায়।
হ্যাঁ। প্রতিটি মনিটরের জন্য আলাদা পর্দা তৈরি হয়, তাই কোনোটাই খোলা থাকে না।
না। ঘুমিয়ে থাকা বা বন্ধ থাকা সময়টুকু কাজের হিসাবে ধরা হয় না — বরং সেটাকে বিশ্রাম ধরে হিসাব নতুন করে শুরু হয়।
সেটা আপনার সেটিংসের উপর। "সর্বোচ্চ কতবার পেছানো যাবে" শূন্য রাখলে লক পর্দায় কোনো বোতামই থাকে না। এক বা তার বেশি দিলে ততবার পেছানো যায়, প্রতিবারের হিসাবও লেখা থাকে।
অ্যাপটি এমনভাবেই তৈরি যে তিনটি প্ল্যাটফর্মেই চলে, তবে এই মুহূর্তে শুধু Windows-এর ইনস্টলার প্রকাশ করা হয়েছে।
নামাজের ওয়াক্তের লক অংশটি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য তৈরি করা আছে। একটানা কাজের বিরতি অংশটি ডেস্কটপের জন্য — কারণ ওতে কি-বোর্ড ও মাউসের ব্যবহার দেখে হিসাব রাখা হয়।
ঘড়ির পাশে ট্রে আইকনে ডান-ক্লিক করে "অ্যাপ বন্ধ করুন" দিন। শুধু উইন্ডো বন্ধ করলে অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতেই থাকে।
না, কিছুই না। কোনো সার্ভার নেই, কোনো অ্যাকাউন্ট নেই, কোনো ট্র্যাকিং নেই। আপনার সব সেটিংস আপনার নিজের কম্পিউটারে একটি সাধারণ ফাইলে থাকে।